জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছয় শিক্ষার্থী হত্যার দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শুরুতে ২০ নভেম্বর শুনানির দিন ঠিক করা হলেও রোববার তা পিঠিয়ে ২৩ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মোহাম্মদ শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন– অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন এ দুই মামলার শুনানির তারিখ পেছানোর আবেদন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। পরে তা মঞ্জুর করে নতুন দিন নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।
গত ২২ অক্টোবর গুমের দুই মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ঠিক করা হয়।
প্রসিকিউটর তামিম জানান, গুমের দুটি মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। সেই মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ নভেম্বর।
তিনি বলেন, ‘প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আজ একটি আবেদন করে তারিখ পরিবর্তনের জন্য আমরা প্রার্থনা করেছিলাম। সেই আবেদন মঞ্জুর হয়ে আগামী ২৩ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। অতএব তাদের শুনানির দিন পরিবর্তিত হয়েছে।’
এছাড়া রোববার ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে ১২তম দিনে ২০ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, এসব মামলায় তৎকালীন পুলিশের ছয় সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়। আট অভিযুক্তের মধ্যে চারজন কারাগারে আছেন এবং চারজন পলাতক।
হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যরা হলেন- শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মোহাম্মদ আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মোহাম্মদ সুজন মিয়া, মোহাম্মদ ইমাজ হোসেন ইমন এবং মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
গুমের এক মামলায় রোববার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও সহ-আসামি করা হয়েছে। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি জমা দিতে অতিরিক্ত সময় চান তারা। ট্রাইব্যুনাল তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে বলেও আশা রাষ্ট্রপক্ষের।
একই সঙ্গে জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় ফার্মগেট এলাকায় গোলাম নাফিস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অগ্রগতির বিষয়েও ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তদন্তের বর্তমান অবস্থা জানানোর পাশাপাশি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নতুন তারিখ চাওয়া হবে।


