ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান এ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন বলে টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন ঢাবির জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম পান্না।
তিনি বলেন, ‘আইনি মতামত, সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতামত এবং ডাকসুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গোলাম রাব্বানীকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে তার বিরুদ্ধে চলমান একটি ফৌজদারি মামলার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে তাকে একাডেমিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খানকে।
গোলাম রাব্বানী ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পান। প্রায় ছয় বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে, গত ৬ জানুয়ারি বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আতাউর রহমান বিশ্বাস ইন্তেকাল করেন। এরপর ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে এ কে এম গোলাম রাব্বানীর নাম দেখা যায়।
তবে, তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার খবরে বিরোধিতা করে গতকাল রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গোলাম রাব্বানী ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর’ এবং ‘জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী’।
পাশাপাশি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে পদ থেকে অপসারণ না করা হলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।


