ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রেজিস্ট্রার ভবনের সেবায় হয়রানি, উদাসীনতা, দীর্ঘসূত্রতা ও সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনার অভাবের প্রতিবাদে ব্যঙ্গাত্মক প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে ‘ইমেইল ভেরিফিকেশন ও কল রিসিভ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’ শিরোনামে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচি থেকে রেজিস্ট্রার ভবনের সকল কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়করণ করাসহ ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
সম্প্রতি ভেরিফিকেশন ফি-সংক্রান্ত জটিলতায় দুই শিক্ষার্থীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। আয়োজকরা বলেছেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান গাফিলতি ও দীর্ঘসূত্রতা তুলে ধরতে এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ভেরিফিকেশন ফি-সংক্রান্ত জটিলতায় দুই শিক্ষার্থীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ হাতছাড়া প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যলয়ের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুল আলম তাহিন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইমেইল ভেরিফিকেশন চায়। কিন্তু ২০১৫ সালের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সেবার জন্য ৫০ ডলার ফি নেওয়া হয়, যা শিক্ষার্থীদের কাছে ব্যয়বহুল ও অযৌক্তিক।’
বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী মুবাশ্বির মাহমুর নিবিড় টাইমসকে বলেন, ‘এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের প্রতি আমাদের একটি ব্যাঙ্গাত্মক কর্মসূচি। মূলত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের না, সেটা সম্পূর্ণই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বোঝাতে চেয়েছি যে তাদের দায়িত্বগুলো যদি তারা ঠিক ঠাক ভাবে পালন করতে না পারে, সেটা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক মেধাবিকাশ, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।’
আরেক শিক্ষার্থী অর্ক বড়ুয়া টাইমসকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই লাঞ্চের পর আসেন ধরনের অজুহাতে হয়রানি চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে শুধু ই-মেইল ভেরিফিকেশন না হওয়ায় এক সপ্তাহেই দুই শিক্ষার্থীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদন বাতিল হলেও প্রশাসন কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি; বরং দায় চাপিয়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর। তাতে যেকোনো সমস্যা নিয়ে গেলে কর্মকর্তাদের দায়সারা মনোভাব ও উদাসীনতা স্পষ্ট। যখন বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ সেবা অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে, তখন এই ধীর ও অকার্যকর ব্যবস্থাপনা সময়োপযোগী নয়।’
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভর্তি থেকে সনদপত্র উত্তোলন, সকল সেবা অনলাইনে প্রদান করা। অনলাইন ও অফলাইনে হেল্প ডেস্ক গঠন। কর্মকর্তাদের অ্যাডভান্সড ট্রেনিং প্রদান। ইমেইল ভেরিফিকেশন ফি পুনঃবিবেচনা, রেজিস্ট্রার ভবনের কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা এবং ‘টাইম স্লটিং’ সিস্টেমে সেবা প্রদান।


