খাগড়াছড়িতে এবার সড়ক অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার

খাগড়াছড়িতে এবার সড়ক অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার
খাগড়াছড়ির তিন সড়কে আধাবেলা সড়ক অবরোধ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

খাগড়াছড়িতে ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে ডাকা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। মানবিক কারণ ও প্রশাসনের আশ্বাসকে বিবেচনা করে জুম্ম ছাত্র-জনতা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি গুইমারার পরিস্থিতিও ক্রমশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে।

শনিবার জুম্ম ছাত্র-জনতার ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহীদদের স্মরণে পূণ্যকর্ম সম্পাদন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি মানবিক সহায়তা প্রদান, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারসহ ৮ দফা দাবিনামার আংশিক বাস্তবায়নের আশ্বাসকে গ্রহণ করে অবরোধ স্থগিত করা হয়েছে। তবে ৮ দফা পূরণ না হলে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাহিদার ভিত্তিতে শিগগির ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হবে। রাত ১০টার আগে পর্যন্ত শিথিলতা অব্যাহত থাকবে।

গুইমারায় শনিবারের সাপ্তাহিক হাটে স্বাভাবিক জীবন ফিরে এসেছে। দোকানপাট খুলেছে, বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ধ্বংসস্তূপে পরিষ্কার করে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে পুরো এলাকা স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ তৎপর।’

আরও পড়ুন

পার্বত্য জেলা পরিষদ ক্ষতিগ্রস্ত ২৮টি পরিবার ও ব্যবসায়ীর মধ্যে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। প্রতি পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও এক বস্তা চাল দেওয়া হয়েছে।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, ‘সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রাথমিক সহায়তা হলেও জেলা পরিষদ সবসময় তাদের পাশে থাকবে।’

গত ২৩ সেপ্টেম্বর মারমা জনগোষ্ঠীর এক স্কুলশিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে জুম্ম ছাত্র-জনতা। এক পর্যায়ে আন্দোলন সহিংসতায় গড়ালে ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারায় তিনজন নিহত হন।

দুইপক্ষের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগে ৯০টির বেশি ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও স্থাপনা পুড়ে যায়। ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এর মধ্যে বেশিরভাগই মারমাদের। কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি অফিসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad