ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের মধ্যে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় জানিয়েছেন, ইরাকে অভিযানের প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দু’সপ্তাহ সময় নেওয়ায় ‘কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ’ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেনে, ‘পরবর্তী দুই সপ্তাহে একটি কূটনৈতিক সমাধানের জানালা তৈরি হয়েছে।’
শুক্রবার জেনেভায় ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে মিলে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসছেন।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আগামী ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে’ সিদ্ধান্ত নেবেন– যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না। হোয়াইট হাউসের এ ঘোষণা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা তেহরান এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রসহ অন্তত ৬০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বিয়ারশেভার একটি প্রযুক্তি পার্কে আঘাত হানে, যেখানে সাতজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইরানের তরফ থেকে এখনো হতাহতের কোনো অফিসিয়াল সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির ভেতরে সাংবাদিক প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকায় ইসরায়েলের হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবারের জেনেভা বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লাইস ডুসে জানিয়েছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই উদ্যোগ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পারমাণবিক সমঝোতা (নিউক্লিয়ার ডিল) প্রস্তাবকে সামনে রেখে ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনার প্রয়াস।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও সময় সময় ইসরায়েলের ভেতরে হামলার চেষ্টা করেছে।
গত বছর ইরান একটি গুপ্তচর চক্রের মাধ্যমে ‘ওয়েইজমান ইনস্টিটিউটের’ এক বিজ্ঞানীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল, যেটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
ডেভিড ল্যামির সর্বশেষ মন্তব্য, ‘এখন কূটনীতির একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
‘এই সংকটের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে,’ উল্লেখ করেন তিনি।


