ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে ছয় বছর পর। নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিনের প্রচারণার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে ব্যাপক উৎসাহের মধ্য দিয়ে চলছে ভোটগ্রহণ।
এ দিন সকালের প্রথম প্রহরে, প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটারদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করতে দেখা যায়, কিছু প্রার্থী শেষ মুহূর্তে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
বিএনপি-সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান সকালে ৮টায় তার নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভোট দিতে কেন্দ্রে আসুন, বাসায় থাকবেন না; আপনার ভোট অত্যন্ত মূল্যবান।’
মঙ্গলবার রাতের শেষ দিকে, বামপন্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মেঘমল্লার বসু ফেসবুকে ভোটারদের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘যদি আমাকে যোগ্য প্রার্থী মনে না করেন, তাহলে দয়া করে আমার জন্য ভোট দেবেন না।’
এদিকে, ইসলামী ছাত্র শিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েমও সকালে তার নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দেন।
সকাল থেকে ব্যাপক সংখ্যায় শিক্ষার্থীরা ভোট কেন্দ্রে আসছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে উদগ্রীব।
ঢাবির ভোট ঘিরে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। শুধুমাত্র আইডি কার্ডধারী শিক্ষার্থী এবং অনুমোদিত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে।

ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী, এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। শুধু সদস্যপদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সর্বাধিক ২১৭ জন প্রার্থী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে মোট এক হাজার ৩৫ প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। যাদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন।
ভোটাররা ব্যাগ, মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইস, পানির বোতল বা তরল কোনো পদার্থ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ’, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, বাম জোট সমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’সহ পূর্ণ ও আংশিক মিলিয়ে প্রায় ১০টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে।
গত ২৯ জুলাই তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা দেশ। প্রতিবারের মতো এবারও দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এই নির্বাচন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র শিবিরের রাজনীতির উত্থান, গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ফাটল, নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার কারণে নির্বাচনে ছাত্রলীগের অংশগ্রহণ না থাকা; সবই এবারের ডাকসু নির্বাচনকে রেখেছে আলোচনায়।


