টেলিগ্রামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনার আলাদা দুই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন মো. ইমরান, মো. ফাহিম এবং আসাদুজ্জামান রাব্বি ।
সোমবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রোববার নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর থানার ডক শিপইয়ার্ড এলাকা থেকে মো. ইমরান ও মো. ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আসাদুজ্জামান রাব্বিকে মিরপুর থানাধীন পাইকপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ফাহিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মামলার বাদী দুই দফায় মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৬ টাকা পাঠিয়েছিলেন।
ফাহিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি আবার নিয়ন্ত্রণ করতেন ইমরান।
দেখা গেছে, ফাহিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ৪৮ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। এছাড়াও ইমরানের মোবাইল ফোনে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিষিদ্ধ বাইন্যান্স অ্যাকাউন্টসহ ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়াও আসাদুজ্জামান রাব্বির কাছে থেকে জব্দ করা ডিভাইসে ফেক টেলিগ্রাম আইডি এবং টেলিগ্রাম গ্রুপে কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। তাদেরকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’ ও অন্যান্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্ররোচিত করত বলে প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।
ভিকটিমরা গ্রুপে যুক্ত হলে সেখানে আগে থেকেই যুক্ত কিছু সদস্য বিনিয়োগ করে কীভাবে স্বল্প সময়ে অধিক লাভ করেছে, এমন ভুয়া ও সাজানো পোস্ট দিত। প্রকৃতপক্ষে এসব সদস্যই ছিল চক্রের সক্রিয় সহযোগী এবং পোস্টগুলো ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
সাধারণ মানুষ প্রলুব্ধ হয়ে গ্রুপের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) একাউন্টে অর্থ পাঠাত। এসব অ্যাকাউন্ট অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃতীয় ব্যক্তির নামে খোলা ছিল, যাদের অনেকেই প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতেন না।
পরবর্তীতে প্রতারকরা এসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও আত্মসাৎ করত। বহু বিনিয়োগকারী এভাবে নিজেদের সর্বস্ব হারিয়েছেন বলে সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নগদে রূপান্তরের জন্য চক্রটি অভিনব কৌশল ব্যবহার করতো অপরাধীরা। মূলহোতা ফারদিন আহমেদ বিভিন্ন গাড়ির শোরুম থেকে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে গাড়ি ক্রয় করে স্বল্প সময়ের মধ্যে কম দামে বিক্রি করে কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলন করত। এই পদ্ধতিতেই অবৈধ অর্থ ‘ক্যাশ আউট’ করা হতো।


