আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ছানিজনিত অন্ধত্ব সম্পূর্ণ নির্মূল করার আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি জানান, সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও খাতের সমন্বয়ে একটি জাতীয় রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় হাইটেক চক্ষু সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘বাংলাদেশে উন্নত চক্ষু সেবা : দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও খাতে ভালো কাজ হচ্ছে। তবে একটি কমন রিপোর্টিং সিস্টেম না থাকায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খাতটি পরিবর্তনের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি পার্সপেক্টিভ প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি।’
প্রথম বছরে জেলা হাসপাতালগুলোর আই কেয়ার সুবিধা পুনর্মূল্যায়ন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন জনবল নিয়োগ ও হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
স্কুলগামী শিশুদের চোখের সমস্যা চিহ্নিত করে চশমা সরবরাহের জন্য সমন্বিত ক্যাম্পেইন চালানো হবে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবী মানুষের চোখের স্বাস্থ্যের যত্ন এবং চশমা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
বয়স্কদের ছানি দূর করতে ব্যাপকভিত্তিক ক্যাটারাক্ট সার্জারি প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হবে। প্রতি বছর লাখ লাখ সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চার-পাঁচ বছরের মধ্যে দেশকে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত করা সম্ভব।
ডায়াবেটিক, রেটিনোপ্যাথির মতো সমস্যা চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে মাঠপর্যায়ে সেবা দেওয়া সহজ হয়েছে। আমরা চাই হাইটেক আই কেয়ার প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাক।’
দক্ষ জনবলের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ও ট্রেনিং ক্যাডারের ওপর সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও মান বাড়িয়ে চিকিৎসকদের দক্ষতা অর্জনের পথ সহজ করা হবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক এ. এস. এম. এম. ও সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মেহবুব উল কাদির। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এআরকে ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা।


