টেলিগ্রাম অ্যাপে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপ পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রনজিত বসাক রওনক (২৫) এবং পলাশ চন্দ্র বসাক (৪০)।
এদের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।
সিআইডি জানিয়েছে, আলাদা অভিযানে রনজিতকে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানা থেকে এবং পলাশকে রাত ২ টার দিকে দিনাজপুর সদর থানার সুইহারী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি দল।
এর আগে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ফারদিন আহমেদ ওরফে প্রতীক (২৫) এবং সহযোগী মো. সাগর আহমেদ (২৪) আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এই দুই আসামির নাম বলেছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রনজিত ও পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে সিআইডি জানিয়েছে, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’ ও অন্যান্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্ররোচিত করত। ভিকটিমরা গ্রুপে যুক্ত হলে সেখানে আগে থেকেই যুক্ত কিছু সদস্য বিনিয়োগ করে কীভাবে স্বল্প সময়ে অনেক লাভ করেছে এমন ভুয়া ও সাজানো পোস্ট দিত।
এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রলুব্ধ হয়ে গ্রুপের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাত।
এসব একাউন্ট অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃতীয় ব্যক্তির নামে খোলা ছিল, যাদের অনেকেই প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতেন না।
পরবর্তীতে প্রতারকরা এসব একাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও আত্মসাৎ করত।
সিআইডি আরও জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নগদে রূপান্তরের জন্য চক্রটি অভিনব কৌশল ব্যবহার করত। মূলহোতা ফারদিন আহমেদ বিভিন্ন গাড়ির শোরুম থেকে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে গাড়ি কিনে স্বল্প সময়ের মধ্যে কম দামে বিক্রি করে কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলন করত। এই পদ্ধতিতে অবৈধ অর্থ ‘ক্যাশ আউট’ করা হতো।


