টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
রোববার রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনে বিশ্ব পানি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘পানি শুধু জীবনের উৎস নয়, এটি সমতা ও ন্যায্যতার প্রতীক। সবার জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানির নিশ্চয়তায় একটি ন্যায়সংগত ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, পানি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বন্যা যেমন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়, তেমনি খরায় পানির অভাবে জীবন-জীবিকা ব্যাহত হয়।’
২০২৪ সালের বন্যায় সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘বন্যা মোকাবিলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বর্তমান সরকার ৫৪ জেলায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেছে।’
১৮০ দিনে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার এবং আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পানি মানুষের জীবন-জীবিকা ও আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলকে মরুকরণ এবং দক্ষিণাঞ্চলকে লবণাক্ততার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সচিব এ কে এম শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত।
অনলাইনে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বুয়েট পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের শিক্ষক মো. আতাউর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ।


