কক্সবাজারের টেকনাফে আলাদা অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক মাদক পাচারকারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে জব্দ মাদকের বাজার মূল্য প্রায় নয় কোটি টাকা।
রোববার সকালে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শনিবার বিজিবির মাদকবিরোধী দুইটি আলাদা অভিযানে মোট দুই লাখ ৯২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টেকনাফ উনচিপ্রাং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৭ এর পশ্চিমে শাকের এর ঘের এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে রাত ৮টার দিকে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এসময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা হাতে থাকা প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে খাল সাঁতরে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো দুই লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারিদের ধরতে এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
একইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের শীলখালী অস্থায়ী চেকপোস্টে আরেকটি অভিযান চালায় বিজিবি। টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের ভেতর কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখের খিল এলাকার মো. আব্দুল্লাহ (৩০) কে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া মাদক চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সীমান্তের বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা, জব্দকৃত প্রাইভেটকার এবং আটক ব্যক্তিকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’


