কক্সবাজারের টেকনাফে যৌথ অভিযানে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা জালগুলো পরবর্তীতে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লামার বাজার এলাকায় বিজিবি, নৌ-পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে এসব জাল উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় দুই মাস ধরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অবৈধ কারেন্ট জাল মজুদ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম নজরদারিতে রাখছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল টেকনাফ বাজারের কয়েকটি গুদামে গোপনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়ার নির্দেশনায় যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে লামার বাজার এলাকার চারটি গুদামে একযোগে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৪৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার ও পাচার রোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযানের ফলে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারেন্ট জাল মাছের পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
বিজিবি জানায়, প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, নৌ-পুলিশ ও বিজিবির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।


