ব্যাট হাতে খুব বেশি ছন্দে নেই অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। শুক্রবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তার সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ২১। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন ৫৬* রানের ইনিংস, দলও জিতেছে ৯১ রানের বড় ব্যবধানে। সব মিলিয়ে ৬ ইনিংসে ১০৪ রান।
যদিও নেতৃত্ব দিয়ে দলকে তুলেছেন আগামী নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূলপর্বে। দারুণ এই যাত্রায় জ্যোতি সাফল্যের কারণ হিসেবে দেখালেন, দলের সবার মধ্যে দুর্দান্ত বোঝাপড়াকে।
নেপালের কীর্তিপুরে শুক্রবার সুপার সিক্সের ম্যাচ জিতে চতুর্থবারের মতো বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচ শেষে আইসিসি ডিজিটালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যোতি বলেন, ‘পুরো ব্যাপারটাই টিম স্পিরিটের। সব সময় আমরা একসাথে থাকি, একইভাবে চিন্তা করি। দলকে ঘিরে যে পরিকল্পনা থাকে, মাঠে গিয়ে সেটা করাটাই থাকে মূল লক্ষ্য।’
বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে পারাটা কত বড়? জ্যোতি বললেন, এই অর্জনের ব্যাপ্তি অনেক বেশি। এই উইকেটকিপার ব্যাটার বলেন, ‘দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারা অনেক বড় ব্যাপার। আমাদের বিশ্বকাপ খেলতে দেখলে দেশের বাকিরাও নিশ্চয়ই অনুপ্রেরণা পায়। বাংলাদেশে আরো নারী ক্রিকেটার আছে, যারা চায় আমরা এখানে ভালো করি। বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেললে দেশের ক্রিকেটেও পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে।’
ব্যাট হাতে দিলারা আক্তারের সাথে শারমিন সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারি অদম্য। বাছাইপর্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২৯ রান সোবহানার, ১৮২ রান নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে সুপ্তা, ওপেনার দিলারার ব্যাট থেকে এসেছে ১৫১ রান। সাফল্যের কারিগর হিসেবেব তাদেরই সবটুকু কৃতিত্ব দিলেন জ্যোতি।
বাংলাদেশের টপ অর্ডার নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘এই সাফল্যের পেছনে অনেকেই আছে। আমাদের ওপেনার দিলারা, প্রতি ম্যাচেই রান করেছে। সোবহানা মোস্তারি, শারমিন সুপ্তার কথা না বললেই নয়। আর বোলিংয়ের কথা বললে সবাই ভালো করেছে।’
গ্রুপ পর্ব আর সুপার সিক্স মিলিয়ে বাংলাদেশ এখনো অপরাজিত। সুপার সিক্সের শেষ ম্যাচে ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। সেই ম্যাচ জিতেই বাছাইপর্বের শিরোপা নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার যেমনটা বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ আমরা টানা ছয়টা ম্যাচ জয় লাভ করতে পেরেছি। আর আমাদের আরেকটা ম্যাচ আছে ইনশাল্লাহ আমরা চেষ্টা করব জয়ের ধারা বজায় রাখার জন্য এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য।’


