মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত ঈদের আগের দিনই ঈদ উদযাপন করছেন পিরোজপুর, মাদারীপুর ও নোয়াখালীর ৪০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
শুক্রবার সকাল থেকেই এসব গ্রামে শুরু হয়েছে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। ঈদের জামাত শেষে এখন চলছে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানো আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা।
পিরোজপুর:
জেলার তিন উপজেলার ১০ গ্রামের আট শতাধিক পরিবারের মানুষ সকালে ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ আদায়ের মধ্যে দিয়ে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী এলাকার মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে, মঠবাড়িয়া উপজেলার কচুবাড়িয়া গ্রামের হাজী ওয়াহেদ আলী হাওলাদার বাড়িতে, জেলার নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আল-আমি মসজিদে এবং মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামের খন্দকার বাড়িতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার শুরেশ্বর গ্রামের হজরত মাওলানা আহমেদ আলী শুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা ১৫০ বছর ধরে প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা রাখাসহ দুই ঈদ পালন করে আসছেন।
নোয়াখালী:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, কবিরহাট ও সদর উপজেলার পাঁচ গ্রামের কাদেরিয়া তারিকার অনুসারী দুই শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। প্রায় শত বছর থেকে চলে আসা সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখে এ বছরও এসব গ্রামের মানুষ সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে একদিন আগেই ঈদ পালন করছেন।
শুক্রবার তিন উপজেলার ১০ টি মসজিদে হয়েছে ঈদের জামাত।

সকালে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও হরিণারায়নপুর গ্রাম, কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের রামভল্লবপুর গ্রামে সকাল ১০ টায় ঈদের নামাজ আদায় করে এর আগে বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রামে সকাল পৌনে ১০টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয।
এসব গ্রামের মানুষের দাবি, বড় পীর আবদুল কাদির জিলানী (র.) এর মতাদর্শে তৈরি হয় কাদেরিয়া তরিকা। কাদেরিয়া তরিকার অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি বছর একদিন আগে রোজা রাখেন। সে নিয়মেই দুটি ঈদ পালন করেন।
বেগমগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের মো. সিরাজ মিয়া বলেন, `আমাদের পূর্বপুরুষদের দেখানো পথ অনুযায়ী আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নামাজ পড়েছি। মাধ্যমে আল্লাহর কাছে একে অন্যের জন্য দোয়া কামনা করেছি।‘
নোয়াখালী পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন জানান, এই গ্রামগুলোর মুসল্লিরা যেন শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে।
মাদারীপুর:
মাদারীপুরের ২৫ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ ঈদ পালন করছেন।
সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান ও প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাত পড়ান চরকালিকাপুর ফরাজী বাড়ি জামে ইমাম মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান। ঈদের জামাত শেষে একে অপরে কোলাকুলি করে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন বাসিন্দারা।
সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরীর (রহ.) অনুসারীরা প্রায় দেড়শ বছর আগ থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদ পালন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় চাঁদ দেখা সাপেক্ষ্যে সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুরের চরকালিকাপুর, মহিষেরচর, পূর্ব পাঁচখোলা, জাজিরা, বাহেরচর, চরগোবিন্দপুর, পখিরা, খোয়াজপুর, দৌলতপুর, হোসনাবাদ, রঘুরামপুর, কেরানীরবাট, রমজানপুর, কয়ারিয়া, রামারপুল, সাহেবরামপুর, আন্ডারচর, খাসেরহাটসহ জেলার ২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ঈদ উৎসব পালন করছেন।


