ঝিনাইদহের মহেশপুরে খাবারের সাথে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর বাবা বাদি হয়ে ডালিম তরফদার নামে একজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, মামলায় অভিযুক্ত মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় বাজার পাড়ার ডালিম তরফদার বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। ভুক্তভোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, অসুস্থ মাকে দেখতে গত ৩০মে বাবার বাড়িতে আসেন ওই তরুণী। পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে আসামি ডালিম তার স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার খবর দিতে ওই বাড়িতে আসেন। এসময় তিনি বাড়ির সবাইকে চেতনানাশক মেশানো খেজুর ও কোমল পানীয় খাওয়ান।
বাড়ির সবাই চেতনানাশকের প্রভাবে ঘুমিয়ে পড়লে রাতে ডালিম ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে। ভোর ৫ টার দিকে ভুক্তভোগীর বাবা যেয়ে দেখতে পান মেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে আছে এবং অভিযুক্ত ডালিম ঘরের মধ্যে অবস্থান করছে।
তাকে দেখে জানালা ভেঙে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত ডালিম। পরে ভুক্তভোগীর জ্ঞান না ফেরায় প্রথমে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ভুক্তভোগী।
তরুণী ঘটনার শিকার এবং পরিবারের সবাই ঘটনায় ভুক্তভোগী বলে উল্লেখ করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর বাবা বাদি হয়ে একজনের নামে করে মামলা করেছেন। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী চেতনানাশকের প্রভাবে এখনো যশোরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরলে মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে।’


