যুদ্ধের পরিকল্পনা বা যুদ্ধের সম্ভাবনা মাথায় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেনি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম না সরকার গঠনের ১৫-১৬ দিনেই এমন পরিস্থিতি সামনে আসবে। আপনাদের ধারণা দিতে চাই, যে এলএনজি ১০ ডলারে কেনা হতো তার দাম এখন ২০ ডলার। যে ক্রুড ওয়েল (অপরিশোধিত তেল) কেনা হতো ৫০ ডলারে, সেটি কিনতে হচ্ছে ১১৬ ডলারে।’
সোমবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্সঅ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সারও প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখানে বছরে প্রায় ২৬ লাখ টন ইউরিয়া সার প্রয়োজন হয়। অনেক বড় একটা অংশই আমদানি করতে হয়। কারণ আমরা বহু বছর ধরে গ্যাস স্বল্পতায় নিজেদের সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রেখেছি।’
‘যে গ্যাসের জন্য আমরা সার কারখানা সচল চালাতে পারি, সেটাই আবার বাইরে থেকে আনতে হয় ডলার খরচ করে। যে গ্যাস আমরা কিনতাম ৪৫৬ ডলারে, সেটা কিনতে হচ্ছে ৮০০ ডলারে’, যোগ করেন আব্দুল মুক্তাদির।
‘জ্বালানির এই বাড়তি দাম সরকারের জন্য কঠিন হয়ে গেছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে অর্থনৈতিক সমীকরণ, যে সক্ষমতা তাতে এই ক্রমবর্ধমান দাম বহন করা সরকারের জন্য অনেক কঠিন হয়ে গিয়েছে। তবুও সরকার অন্যখাতে জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে অর্থনীতি সচল রাখতে শিল্পকারখানা সচল রাখতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে’, যোগ করেন তিনি।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় বাধা কোনো কিছু সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। আমাদের কাছে যদি দুই মাস এলএনজি সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকত, তাহলে ১০ ডলারের এলএনজি এখন ২০ ডলারে কিনতে হতো না।’
‘সরকার জনগণের বাইরে কোনো আলাদা সত্তা নয়’ মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগের মাধ্যমেই একটি সুস্থ অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। এ সংযোগ ও স্বচ্ছতা ভেঙে গেলে অর্থনীতিতে অস্থিরতা ও ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়।’
তার মতে, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য। কিন্তু অতীতে এমন কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যেগুলোর যথাযথ যৌক্তিকতা ছিল না এবং প্রকৃত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের আওতাধীন বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগের পর্যালোচনায়ও অনেক প্রকল্পে দুর্নীতি ও অকার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির বলেন, ‘কেবল সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করা সম্ভব নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ ব্যবসা প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা জরুরি।’
টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য করজাল সম্প্রসারণ অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত করহার বাড়ানোর পরিবর্তে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। আসন্ন বাজেট ও পরবর্তী সময়ে এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও আশা করেন মন্ত্রী।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, জেনারেল ইকনমিকস ডিভিশন এর সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমানসহ অনেকে।


