দুর্নীতির মামলায় জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদসহ চারজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আলাদা দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
এতথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপপরিচালক আখতারুর ইসলাম।
নিষেধাজ্ঞা পাওয়া অন্য তিনজন হলেন– ইউনাইটেড গ্রুপ ও নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনার পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
এদিন আদালতে ইনাম আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারি পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর।
আবেদনে জানানো হয়, ইনাম আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩২ কোটি ৬৬ লাখ ১৬ হাজার ২৪৪ টাকার সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রাখার অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করে। একই সঙ্গে তার নিজ নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত মোট ১৪টি হিসাবে মোট ৭৪ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ১২৭ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে হস্তান্তর, স্থানান্তরের ও রুপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করার অভিযোগও করা হয় মামলায়।
মামলাটির তদন্ত চলছে উল্লেখ করে দুদক জানায়, তদন্তকালে ইনাম আহমেদের নামে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পত্তি হস্তান্তর করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। ফলে মামলার ইনাম আহমেদের বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া হাসান মাহমুদ রাজাসহ তিন জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।
আবেদনে বলা হয়, ইনাম আহমেদসহ অন্যান্য ১২ জনের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখলসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচারের অনুসন্ধান চলার পাশাপাশি ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে অনিয়মের মাধ্যমে আইপিপি রেটে গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধানও চলছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে হাসান মাহমুদ রাজা, মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং আবুল কালাম আজাদ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে গোপন সূত্রে জানতে পেরেছে দুদক। সংস্থাটি মনে করে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে তারা যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।


