জেমকন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কাজী আনিস আহমেদ এবং পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মোট ১১৩ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এই মামলা করা হবে।
সোমবার দুদকে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান সংস্থার মহাপরিচালক আখতার হোসেন।
কাজী আনিস ও কাজী ইনাম সম্পর্কে দুই ভাই। তাদের বাবা প্রয়াত কাজী শাহেদ আহমেদ জেমকন গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জেমকন গ্রুপের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আনিস আহমেদ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৮০ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৯৫ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা নিজের মালিকানায় দখলে রেখেছেন।
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, কাজী আনিস আহমেদ ২০০২ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবরের মধ্যে তার নামে থাকা ২০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৪০ কোটি ৬৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৫১ টাকা জমা এবং ৩৮ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ৩০৪ টাকা উত্তোলন করেছেন। যার মধ্যে মোট ৭৯ কোটি ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৯৫৬ টাকার লেনদেনকেই সন্দেহজনক বলে মনে করছে দুদক।
নথিতে বলা হয়েছে, ‘এই অপরাধের জন্য দুদক তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে।’
এছাড়া জেমকনের আরেক পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩২ কোটি ৬৬ লাখ ১৬ হাজার ২৪৪ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
দুদকের নথি অনুযায়ী, কাজী ইনাম আহমেদ ২০০২ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৩৭ কোটি ৯২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ টাকা জমা এবং ৩৬ কোটি ৮৬ লাখ ৭ হাজার ৫৪৩ টাকা উত্তোলন করেছেন। লেনদেন হওয়া মোট ৭৪ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ১২৭ টাকাই সন্দেহজনক বলে মনে করছে দুদক।
এই অপরাধের জন্য দুদক তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে।


