জুলাই সনদ প্রশ্নবিদ্ধ এবং প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে আপত্তিজনক ও অন্তঃসারশূন্য বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
এতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা জুলাই সনদের গুরুত্ব আলোকপাত করতে গিয়ে অনেক অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক টেনেছেন। তার এই বক্তৃতায় আলঙ্কারিক বাহুল্য ও শ্রেষ্ঠত্ববাদী অহমিকার চর্বিতচর্বণ ছাড়া আর কিছুই নেই। মোটাদাগে তার এই অন্তঃসারশূন্য বক্তব্য জাতিকে আশার আলো দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিৃবৃতিতে বলা হয়, গত শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের আয়োজন। মহাসমারোহে এ আয়োজনের ঢাকঢোল পেটানো হলেও, শুরু থেকেই জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়া ও পরিসর নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন জনমনে থাকায় এই স্বাক্ষর-অনুষ্ঠান নিয়ে জনপরিসরে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ ছিল না।
অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশন ও ঐকমত্য কমিশন প্রতিষ্ঠা, সংস্কার নিয়ে আলাপচারিতা ও সর্বোপরি জুলাই সনদ প্রস্তুত করার লক্ষ্যে যেভাবে অগ্রসর হয়েছে, তা অভ্যুত্থানের বহু অংশীজনকেই আশাহত করেছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।
শুধু তাই নয়, সরকার এতটাই জনবিমুখ হয়ে পড়েছে যে, বহু অংশীজনের স্বর এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতসহ জনগণের বহু প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা উঠে আসেনি সংস্কারের সুপারিশমালা ও চূড়ান্ত জুলাই সনদে। বিশেষত, নারী, লিঙ্গীয় পরিচয়ে সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের ব্যাপারে এই সনদে কোনো আশার আলো নেই। নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে প্রসন্ন করার লক্ষ্যে ও বহুপক্ষকে এই সনদ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় দূরে রেখে এবং অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অংশীদার শিক্ষার্থীদের অভিপ্রায়কে গুরুত্ব প্রদান না করে যে ‘ঐক্যে’র কথা প্রচার করা হয়েছে, তার ফাঁক আমরা সনদ স্বাক্ষরের দিনই দেখতে পেয়েছি–জুলাই যোদ্ধাদের একটি অংশ বিক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং তাদের ওপর পুলিশ ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রণীত এই সনদের স্বাক্ষর-দিবসে সকল রাজনৈতিক দল উপস্থিত না থাকলেও, সরকার ও ঐকমত্য কমিশন সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এ আয়োজন করতে ব্যতিব্যস্ত ছিল বলে মনে হয়েছে। এমতাবস্থায়, জুলাই সনদ ঐক্যের ডাক দিতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি প্রশ্নবিদ্ধও হয়েছে, যা অদূর ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করবে বলে তারা মনে করে।
এই অনৈক্যের প্রভাব খোদ ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রায় ৩০ মিনিটের বক্তৃতাতেও প্রতিফলিত হয়েছে। উল্টো তিনি এমন এক আপত্তিজনক ও বিতর্কিত বিষয়ের অবতারণা করেছেন, যা রাজনৈতিকভাবে তো বটেই, সমাজতাত্ত্বিক ও দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল।


