জুলাই ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় জুলাই ঘোষণাপত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
রোববার তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. রুবেল রানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পিআইডির বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জুলাই ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৫ আগস্ট বিকাল ৫টায় জুলাই ঘোষণাপত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।’
এর আগে, ৫ আগস্ট বিকাল ৫টায় গণঅভ্যুত্থানের সব পক্ষের উপস্থিতিতে জুলাই ঘোষণাপত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পোস্টে প্রেস সচিব বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় গণঅভ্যুত্থানের সব পক্ষের উপস্থিতিতে জুলাই ঘোষণাপত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত অবিলম্বে ঘোষণা করা হবে।
শনিবার সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পুনর্জাগরণ র্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্য উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই ঘোষণাপত্র ৫ আগস্টের আগেই প্রকাশিত হতে পারে।
ঘোষণাপত্রের দিনক্ষণ সম্পর্কেও আভাস দিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ‘৫ আগস্টের মধ্যে আপনারা এটি দেখতে পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রে যারা গণঅভ্যুত্থান করেছেন, তাদের ভূমিকার একটি দালিলিক প্রমাণ থাকবে। আমরা কোন কোন আকাঙ্ক্ষা ও ঐতিহাসিক পরিস্থিতির কারণে এখানে উপনীত হয়েছিলাম, কেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল এবং আমরা কোন পথে যাত্রা করতে চেয়েছিলাম এসব বিষয় এতে উঠে আসবে।
এর আগে শুক্রবার রাতে ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া জুলাই ঘোষণাপত্র আসছে বলে নিশ্চিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে তথ্য উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র এখন বাস্তবতা। ৫ আগস্টের মধ্যেই ঘোষিত হবে ঘোষণাপত্র। ঘোষণাপত্র ইস্যুকে গণআকাঙ্ক্ষায় বাঁচিয়ে রেখে এটা বাস্তবায়নের পথ সুগম করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। যার মূল ম্যান্ডেট-রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার এবং জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা। এই প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে জুলাই ঘোষণাপত্র।
জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৬টি দফা রয়েছে। প্রথম ২১ দফায় মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি বর্ণনা করা হয়েছে। পরের ৫টি দফায় বলা হয়েছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা, আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম-খুন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সব ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধের দ্রুত উপযুক্ত বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়।


