আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা নির্বাচনী আইনের একটি অনুচ্ছেদ সংশোধন না করতে বিএনপিকে আশ্বাস দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে রোববার উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছে দলটি।
এরআগে নির্বাচনী আইনের খসড়া সংশোধনী অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ। এই সংশোধনীর একটি অনুচ্ছেদে অনুসারে, জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলে জোটভুক্ত প্রত্যেক নিবন্ধিত দলকে তাদের নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। বিএনপি এই সংশোধনী সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের এই আপত্তির কারণে আইন উপদেষ্টা এই অনুচ্ছেদটি বাদ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে লেখা এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ২০ অনুচ্ছেদ সংশোধন সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে আপনার ব্যক্তিগত আশ্বাস ও অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে দিতে চাই যে, একজন উপদেষ্টা হিসেবে আপনি রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ আইন উপদেষ্টা, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন। নির্বাচনী আইন সংশোধনের মতো বিষয়ে কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে এককভাবে আশ্বাস প্রদান করা জুলাই গণঅভুথান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদের নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতার পরিপন্থী।’
আইন সংশোধনের মতো সিদ্ধান্ত কোনও একক ব্যক্তির নয় বলে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক, পরামর্শনির্ভর ও জনস্বার্থমূলক প্রক্রিয়া। তাই সরকারের পক্ষে এমন কোন আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি প্রদান আপনার প্রশাসনের প্রতি জন-আস্থাকে দুর্বল করবে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ব্যবস্থার উদ্দেশ্যই হলো দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আর্থিক স্বচ্ছতা ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন নিবন্ধিত দল অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করে, তখন তারা নিজেদের নিবন্ধনের দায়বদ্ধতা থেকে কার্যত অব্যাহতি পায়। এতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার নিজস্ব অর্থই হারিয়ে যায়। একদিকে দলটি আলাদা পরিচয় দাবি করে, অন্যদিকে নির্বাচনে অন্য দলের প্রতীক ব্যবহার করে। এটি আইনি বৈপরিত্য সৃষ্টি করে এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতাকে অকার্যকর করে তোলে। এছাড়া গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি হলো রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা। যে দলের নামে জনগণ ভোট দেন, সেই দলই নির্বাচনের পর জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। কিন্তু যখন একাধিক নিবন্ধিত দল বড় দলের প্রতীকে নির্বাচন করে, তখন ভোটার জানেন না তিনি আসলে কাকে ভোট দিচ্ছেন। এর ফলে ভোটার-দায়বদ্ধতার সম্পর্ক ভেঙে যায়।


