রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের আরও চার আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
শুক্রবার বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন -সহিম উদ্দিন (৩০), তুষার (২৭), সাদমান সাকিব (৩৬), আল আমিন মৃধা (৪৫)।
এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. রিয়াজ মোরশেদ মাহিম তাদের জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তবে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এর আগে গত বুধবার এ মামলায় দুই আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। গত মঙ্গলবার আরও সাতজনকে কারাগারে পাঠায় আদালত। এরও আগে গত রোববার নয়জন এবং সোমবার আরও নয়জনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় আদালত। গত শনিবার এই মামলায় ২৪ জনকে রিমান্ডে পাঠায় আদালত। আজ নতুন করে আরও চারজনকে কারাগারে পাঠানো হলো। মামলাটিতে এ পর্যন্ত রিমান্ডপ্রাপ্ত ও কারাগারে যাওয়া আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ৫৫ জন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর গুলশান এলাকায় গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১২টায় নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলরে লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন ও বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করেন।
এ সময় তারা ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। অজ্ঞাতনামা আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হয়ে নিষিদ্ধ সত্ত্বাকে সমর্থন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে তথা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন ও বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান।
পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুলিশের উদ্দেশ্যে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। এ সময় পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮০/১০০ জনকে আসামি করা হয়।


