রাজধানীর ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডিএমপির ডেভেলপমেন্ট বিভাগে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, যা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বুধবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ইমাউল হককে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আদেশে সরাসরি কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওসির মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে সাতটি ভিন্ন বিকাশ ও নগদ নম্বর থেকে মোট ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ অর্থ অনলাইন জুয়ায় খরচ হয়েছে।
বিশেষভাবে, ভাটারা থানার পেছনে অবস্থিত একটি বিকাশ বা নগদ দোকান থেকে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, কনস্টেবল আমজাদের নম্বর থেকে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা, কনস্টেবল সাদ্দামের নম্বর থেকে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা, নাসিমের নম্বর থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা, মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা, খালেকের নম্বর থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা, ‘লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ’ নামে রেজিস্ট্রেশন করা নম্বর থেকে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা এবং মিজানুর নম্বর থেকে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আরও বিপুল লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ওসি মো. ইমাউল হক জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তার মোবাইল নম্বর হ্যাক করে একটি গোষ্ঠী এই লেনদেন করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।


