পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে ঈদের আনন্দ খুঁজে নিতে আসা পর্যটকদের জন্য খাগড়াছড়ি এখন একরাশ বিড়ম্বনার নাম। জেলায় দেখা দেওয়া তীব্র জ্বালানি তেল সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা।
মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসা পর্যটকরা বিপাকে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি। তেলের অভাবে অনেকেরই সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। ফলে আনন্দের বদলে একরাশ হতাশা নিয়ে তারা বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।
ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস মিলিয়ে ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটিতে ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার সকাল থেকেই খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করে। তবে আনন্দ ভ্রমণে আসা পর্যটকদের বড় একটি অংশ খাগড়াছড়ি শহরে এসেই আটকা পড়েন। স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সরবরাহ না থাকায় কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাননি অনেক বাইকার।
সাজেকগামী পর্যটকদের জন্য এই সংকট যেন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেককে খাগড়াছড়ি শহর পর্যন্ত এসে তেলের অভাবে সাজেক যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
জ্বালানি সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়লে দীঘিনালা উপজেলায় গ্রাহক ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে যৌথ অভিযান চালায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ। যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে যানবাহনে তেল সরবরাহ কিছুটা শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তা ছিল নেহাতই অপ্রতুল।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে আসা ১২ জনের একটি বাইকার দলের সদস্য রিফাত হোসেন ও জামাল হোসেন নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে সাজেক যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু খাগড়াছড়ির পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাননি। পর্যাপ্ত তেল না থাকায় তারা সাজেকে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে পারছেন না। তাদের মতো আরও অনেক বাইকার দলকেই মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে হয়েছে, যা তাদের ঈদের আনন্দকে বিষাদে রূপ দিয়েছে।
একই অভিযোগ করেন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে সপরিবারে আসা ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদের এই মৌসুমে যখন পর্যটকদের ঢল নামে তখন প্রশাসনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত ছিল। পাম্পগুলোতে তদারকির জন্য প্রশাসনের কোনো লোক দেখা যায়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জ্বালানি সংকটের কারণ হিসেবে খাগড়াছড়ি সদরের মেহেরুন নেছা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার প্রবীর কুমার দাশ জানান, শনিবার বিকেলেই তাদের তেলের মজুদ শেষ হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের ডিপোতে গাড়ি পাঠানো হয়েছে এবং সোমবার সকালের আগে নতুন করে তেল আসার সম্ভাবনা নেই।
তবে এই সংকটের কথা পুরোপুরি স্বীকার করতে নারাজ জেলা প্রশাসন। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, জেলায় তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। তবে ঈদের কারণে যানবাহনের বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে লম্বা লাইন পড়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে অনেকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে ফিলিং স্টেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, রোববার তেলের সংকটের মাঝেই দেড় শতাধিক বাইকার এবং দুই হাজারের বেশি অন্যান্য গাড়ি দিয়ে সাধারণ পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন।
তবে সাধারণ পর্যটকদের দাবি, দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে পাহাড়ি এই জনপদে পর্যটন মৌসুমে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।


