বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ৩০ মে, শনিবার, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশে বহুদলীয় রাজনীতি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার সাহসী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন।
একই সঙ্গে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি উল্লেখ করে এই রাষ্ট্রনায়ককে দেশের স্বার্থে আপসহীন হিসেবে বর্ণনা করেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং জনগণ তা দেখছে।
কর্মসূচির বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার ভোর ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।
এ ছাড়া সকাল ১১টায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সিনিয়র নেতারা শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। এরপর জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মাজার প্রাঙ্গণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর ১৬টি স্পটে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রথম খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হবে।
এরপর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কারওয়ান বাজার এফডিসির সামনে দুস্থদের মাঝে সামগ্রী বিতরণ করবেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর আবদুল মঈন খান।
অন্যদিকে, সকাল ১০টায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রুহুল কবির রিজভী।
এরপর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে হাইকোর্ট মাজারের সামনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীদের আয়োজনে দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করবেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীদের আয়োজনে প্রতিবছরের মতো এবারও মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রতিটি স্থানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে এ উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে।


