মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলালের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা জানান। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
মো. রুহুল আমীন দুলাল জানতে চান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা গণহত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের তালিকা করা হবে কি না; এই বিষয়ে শহীদ পরিবারের সঠিক সংখ্যা ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রকাশ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না; থাকলে, তা কবে নাগাদ শুরু হতে পারে?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার এত বছর পরও তাদের একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘অথচ তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা অর্জন করেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।’
উক্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।
এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ব্যক্তি এবং সকল শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। এর ফলে তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান নিশ্চিত করা যাবে, যোগ করেন তিনি।


