কক্সবাজারে অপহরণের পাঁচ দিন পর মো. লোকমান মিয়া (২৫) নামে এক সিএনজিচালককে টেকনাফ শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড় থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) শালবাগান ক্যাম্পের সদস্যরা। শনিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার শালবাগান ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৯ ও এ-১০ ব্লকসংলগ্ন পাহাড় থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ক্যাম্পের ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শালবাগান পুলিশ ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা পাহাড়ের পাশে একজন ব্যক্তি পড়ে থাকার তথ্য জানতে পারেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় লোকমান মিয়াকে উদ্ধার করে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে পরিবারের জিম্মায় তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং বাজার থেকে তিনজন যাত্রী নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মৌচনী বাজার হয়ে নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় যান লোকমান মিয়া। ইটভাটার সামনে একটি চায়ের দোকানের কাছে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে টেনেহিঁচড়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরে অপহরণকারীরা রশি দিয়ে লোকমানের হাত-পা বেঁধে নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের ইটভাটার পাশে আনসার ক্যাম্পের পেছনের উঁচু পাহাড়ে আটকে রাখে। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।অপহরণের পাঁচ দিন পর শনিবার দুপুরে শালবাগান এপিবিএন ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া লোকমান মিয়া চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা এলাকার মো. আমির হোসেনের ছেলে।
এ ঘটনায় শালবাগান এপিবিএন পুলিশ ক্যাম্পে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


