কারাবন্দী সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে বিশ্বের পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার ও গণমাধ্যম বিষয়ক সংগঠন।
পাঁচটি সংগঠন হচ্ছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
২০১৩ সালের মে মাসে শাপলা চত্বরের ঘটনার সংবাদ সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আইসিটি’তে তদন্ত চলছে।
বুধবার সংগঠন পাঁচটি এক যৌথ বিবৃতিতে শুধু পেশাগত সাংবাদিকতার কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো কোনো ফৌজদারি মামলা না করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৫-৬ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের নিরাপত্তা অভিযান নিয়ে সংবাদ প্রচারের সূত্র ধরে গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে এই মামলায় রূপা ও বাবুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত তাদের আইনজীবীদের কোনো প্রমাণ বা অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। আইসিটি’র প্রসিকিউশনের দাবি, ফারজানা রূপার উপস্থাপিত একটি অনুষ্ঠানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে’ মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা করা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ঘটনার খবর প্রকাশ করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মূল অংশ। কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়া সংবাদ প্রকাশের সিদ্ধান্তকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার করা আইনের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভুল ও দেশের সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই রূপা, বাবু এবং তাদের সহকর্মী সাংবাদিক শাকিল আহমেদ ও সম্পাদক শ্যামল দত্তকে অসংখ্য ভিত্তিহীন হত্যা মামলায় আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে সাংবাদিকতা কিভাবে খুনের অপরাধ হয় তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। হাইকোর্ট রূপা ও শাকিলকে জামিন দিলেও সুপ্রিম কোর্ট তা স্থগিত করে দেয়। এখন আইসটি’র এই নতুন মামলার মাধ্যমে তাদেরকে দীর্ঘকাল আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী।


