ঢাকায় শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রাকালে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। পরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। এতে সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, ‘সোচ্চার’-এর সভাপতি রাহাত আবদুল্লাহসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। তারা বলেন, ‘অতীতের শাসনামলে বিচার চাইলে যেভাবে দমন-পীড়ন হতো, এখনো একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।’ তারা হাদি হত্যার দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘হাদি হত্যার ৫০ দিন পার হলেও বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ রোধ করতে গুলি ও দমননীতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী সময়ে যে সংস্কারের প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি।’ বিশেষ করে পুলিশ সংস্কারের দাবি পূরণ না হওয়ায় হতাশা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে, এদিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস আম্মারসহ অন্তত ২০ থেকে ২২ জন আহত হন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং কয়েকজনকে বুট দিয়ে পেটানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা শেষে পুনরায় কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা হাদি হত্যার বিচার না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


