দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় তিন বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার এ বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক হাই কোর্ট বেঞ্চ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জুবাইদা রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন।
মঙ্গলবার ৫৮৭ দিনের বিলম্ব মার্জনার দরখাস্ত হাই কোর্ট মঞ্জুরের পর তিন বছরের সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করেন জুবাইদা রহমান।
জুবাইদা রহমানের আইনজীবি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মামলার নথি তলব করে ৩৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও স্থগিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাজা দিতে মামলাটি করা হয়েছিল। আমরা আশা করি পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানিতে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে খালাস করাতে সক্ষম হব।’
২০০৮ সালে কারামুক্তির পর তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার লন্ডনে যান। স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জায়মা রহমানও তার সঙ্গে গিয়েছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগের সময়ে তাদের আর দেশে ফেরা হয়নি। সে কারণে তিনি বিভিন্ন মামলায় আইনী লড়াই চালাতে পারেননি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২ অক্টোবর এ মামলায় জুবাইদা রহমানের দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। গত ৬ মে শাশুড়ি খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন জুবাইদা। পরে তার আইনজীবীরা হাইকোর্টে আপিলের আবেদন করেন।
২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে দুদক এ মামলা করেছিল।
২০২৩ সালের ২ আগস্ট ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ও মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এ মামলায় তারেক রহমানকে ৯ বছর ও জুবাইদা রহমানকে তিন বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সেই সঙ্গে তাদের জরিমানাও করা হয়।


