পাকিস্তানকে স্পিন জালে ফাঁসিয়ে সুপার এইটে ভারত

পাকিস্তানকে স্পিন জালে ফাঁসিয়ে সুপার এইটে ভারত
পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠেছে ভারত। ছবি: আইসিসি
Advertisement
Advertisement

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে যে পরিমাণ মিডিয়া হাইপ, দর্শকদের আগ্রহ থাকে, মাঠের ফলাফলে তার উল্টো চিত্র। গেল দশ বছরে হাতে গোনা দু-তিনটির বেশি ম্যাচ পাওয়া যাবে না, যেখানে পাকিস্তান লড়েছে সমানতালে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এর ব্যতিক্রম হলো না। রোববার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান গুটিয়ে গেছে ১১৪ রানে। ১২ বল হাতে রেখে ৬১ রানের জয়ে ভারত উঠল সুপার এইটে।

সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দলের হেড-টু-হেড এখন ৮-১। একে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই আপনি বলবেন কিনা, ভেবে দেখতেই পারেন। শনিবার যেমন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা বলেছেন, ইতিহাস তারা বদলাতে পারবেন না ঠিকই, কিন্তু সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে মাঠে সেটার প্রতিফলন ঘটাতে চান। বলা ভালো, শিক্ষাগ্রহণ যেমনই হোক, ফলাফলটা এবারও পক্ষে আসেনি সালমানদের।

অবশ্য রাজনৈতিক বৈরিতা আর সাম্প্রতিক হ্যান্ডশেক বিতর্ক না থাকলে ভারত-পাকিস্তান লড়াই মাঠের বাইরে রঙ হারাত সেটা বলাই বাহুল্য। এবারের ম্যাচ ঘিরে আগ্রহের পারদ বাড়ার অন্যতম কারণ অবশ্য পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের হুমকি। তা শুনে আইসিসির মাথায় হাত। মানি মেকিং প্রজেক্ট মাঠে না গড়ালে সবদিকেই তাদের ক্ষতি। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান রাজি হওয়াতে মাঠে গড়িয়েছে ম্যাচ। দর্শকরাও হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন গ্যালারিতে, কলম্বোর হোটেল ভাড়া বেড়েছে চার গুণ, তবুও দুই দেশের ভক্ত-সমর্থকদের থামায় কে? কিন্তু ক্রিকেটা প্রেমী দর্শকদের মন ভরেছে কি? উত্তরটা যাচ্ছে ‘না’ এর ঘরেই।

যদিও কলম্বোতে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে ১৮ ওভারই কেবল স্পিনারদের দিয়ে করাতে দেখে বেশ নড়েচড়েই বসেছিলেন অনেকে। কেবল দুই ওভার করেছেন পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি। অবশ্য এই স্ট্র্যাটেজি কাজেও দিয়েছে বেশ। মিডল ওভারে সাইম আইয়ুবের টানা দুই উইকেট নেয়া ওভারে রানের চাকা চেপে ধরে পাকিস্তান।  সারপ্রাইজ প্যাক উসমান খানও তাকে নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনা আর আলোচনার জবাব দিয়েছেন পারফর্ম করে। ৪ ওভার করে ২৪ নিয়েছেন সূর্যকুমার যাদবের উইকেট।

শুরুতেই ফিরে গেছেন অভিষেক শর্মা। ইশান কিশানের ৪০ বলে ৭৭ রানের অমন একটা ইনিংসের পরেও ভারতকে ১৭৫ রানে আটকে রাখার কৃতিত্ব পাকিস্তানের স্পিনাররা পেতেই পারেন। তবে রান তাড়ায় নেমে ব্যাটাররা করেছেন হতাশ। হার্দিক পান্ডিয়ার প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন সাহিবজাদা ফারহান। একই ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহ এসে নিয়েছেন সাইম আইয়ুব আর সালমানের উইকেট। বাবর ফিরেছেন কুলদীপের বলে বোল্ড হয়ে।

আরও পড়ুন

এরপর পঞ্চম উইকেটে ৩৯ রানের একটা জুটি হয়েছে উসমান খান আর শাদাদ খানের ব্যাটে। পাকিস্তান লড়াই যা করেছে সেই জুটিতেই। অক্ষর প্যাটেলের বলে স্টাম্পড হয়ে ৪৪ রান করা উসমান ফেরার পর ভারতের জয় ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। হলোও তাই। ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ নওয়াজরাও খেলতে পারেননি বড় ইনিংস। ১৮ ওভারের ইনিংসে ভারতের পাঁচ স্পিনার মিলে করেছেন ১৩ ওভার। এর মধ্যে বরুন-অক্ষর নিয়েছেন দুটি করে উইকেট, কুলদীপ আর তিলকের জুটেছে একটি করে উইকেট।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে তিন ছক্কা আর ১০ চারে ইশানের ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংসে লড়াইয়ের ভিত পায় ভারত। ইশান অবশ্য সাইম আইয়ুবের শর্টার লেংথের বলে পুল করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন। অবশ্য এরপর তার হতাশা ছিল দেখার মতো।

ইশানের বিদায়ের পর ভারতকে চেপে ধরে পাকিস্তানি বোলাররা। ইনিংসের ১৫তম ওভারে সেই সাইমই খুলে বসেন ঘূর্ণি জাদুর ঝাঁপি। টানা দুই বলে ফেরান তিলক ভার্মা ও হার্দিক পান্ডিয়াকে। এখানেই রানের লাগাম টেনে ধরে পাকিস্তান। ৪ ওভার বল করে ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন এই অফস্পিনার।

তার সাথে উসমান তারিকের চেপে ধরা বোলিং স্পেলের অবদানও আছে বেশ। শুরুতে উইকেট না পেলেও কোটার চার ওভারে শেষ বলে আউট করেছেন ৩২ রানের ইনিংস খেলা ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমারকে। মিডল ওভারে পিছিয়ে পড়লেও ডেথ ওভারে শিভাম দুবের ১৭ বলে ২৭* ও রিংকু সিংয়ের ৪ বলে ১১ রানের ইনিংসে ১৭০ ছাড়ানো সংগ্রহ পায় ভারত।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad