আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কয়েকজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ কমিটি গঠন করে দেন। যার নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি নিজেই।
কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মার্জিনা রায়হান মদিনা, জহিরুল আমিন এবং ট্রাইব্যুনালের একজন গবেষণা কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে দুপুরেই সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন চিফ প্রসিকিউটর।
এর আগে সকালে চিফ প্রসিকিউরের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অধিকাংশ প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ঘটনায় চিফ প্রসিকিউটর মর্মাহত হন ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি সবাইকে দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে আহ্বান জানান।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমার কর্মকালে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ন্যূনতম দুর্নীতির অভিযোগ এলে বরদাশত করা হবে না। ট্রাইব্যুনালে কাজ করতে হলে নির্লোভ হতে হবে। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকতে হবে সবাইকে। এমন না হতে পারলে এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। যে কেউই চলে যেতে পারবেন।’
বৈঠকে প্রসিকিউটররা বিভিন্ন মতামত দেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় কী, কীভাবে বিষয়টি সমাধান করা যায়, এ নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেই ঘটনা তদন্তে কোনো কোনো প্রসিকিউটর অভ্যন্তরীণভাবে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। পরে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
সম্প্রতি প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে।
সবশেষ সোমবার বিচারাধীন মামলার আসামিকে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অন্য একজন প্রসিকিউর সাইমুম রেজা তালুকদারের ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ড থেকে জানা যায়, মামলার আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার বিনিময়ে প্রসিকিউশন টিমের সদস্য ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছেন।
প্রসিকিউটর সাইমুম এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন।


