জামালপুরের পৃথক উপজেলায় গত চারদিনে তীব্র গরমে নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রাথমিকভাবে ধারণা, অতিরিক্ত গরমের কারণে হিট স্ট্রোকে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলার মাদারগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
আজ সকালে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাদারগঞ্জের গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ গ্রামের কৃষক টুনু আকন্দ (৫৫) মারা যান। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার মৃত সাদেক আকন্দের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশের জমিতে খড় শুকানোর কাজ করছিলেন টুনু আকন্দ। প্রচণ্ড গরমের কারণে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সকালে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে বুধবার দুপুরে মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকায় ধানের খড় শুকাতে গিয়ে বালি বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত ইমান আলী প্রামাণিকের স্ত্রী।
মঙ্গলবার দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের রবিয়ার চর গ্রামে ধান কাটার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন সানোয়ার। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত ওমের আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় রবিয়ার চর উত্তর জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন ছিলেন।
সোমবার দুপুরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভাতখাওয়া গ্রামে ধান কাটতে গিয়ে মারা যান আসাদুল ইসলাম। তিনি ওই গ্রামের মো. মহল মণ্ডলের ছেলে। দীর্ঘদিন ঢাকায় বসবাসের পর ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে ধান কাটার কাজে অংশ নিয়েছিলেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, তীব্র গরমে মাদারগঞ্জে দুই দিনে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। চলমান তাপপ্রবাহে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে দুপুরের প্রখর রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে কাজ না করার বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, বর্তমান আবহাওয়ায় হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও গরমজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের সময় বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহার করতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন পান করতে হবে।


