ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ শাহবাগ মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তারা রাতভর অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। সন্ধ্যার পর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শাহবাগ মোড়ের চারদিকে রয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এতে শাহবাগ দিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে রয়েছে। তবে আশপাশের কয়েকটি সড়কে সীমিত আকারে যান চলাচল করছে।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের জানান, ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না তারা। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত শাহবাগে আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আজ থেকে শাহবাগের নাম “শহিদ ওসমান হাদি চত্বর” করতে হবে। হাদির স্মৃতিতে “সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের” বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।’
একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শাহবাগে এসে জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে জবাব না দেওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে বলে জানান আবদুল্লাহ আল জাবের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘সরকার যদি ন্যূনতম বিচার নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘হাদির মুখ বন্ধ করা মানে লাখো হাদিকে জাগিয়ে তোলা। আমরা এখানে বক্তব্য দিতে আসিনি। শুধু ইনসাফ চাইতে এসেছি।’
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় বসুন্ধরার বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে।
সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান ওসমান হাদি।
এরপর ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হয়। পরদিন ২০ ডিসেম্বর মরদেহের সুরতহাল শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে হাদিকে সমাহিত করা হয়।


