বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত বাংলাদেশি যুবক শফিউল আলম শফিক (৩৫) মারা গেছেন।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজার থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়।
উখিয়া অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিক আজাদ মৃত্যুর বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন। নিহত শফিউল আলম ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী এলাকার মোহাম্মদ কালুর ছেলে।
এর আগে, একই দিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, কাজ করতে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় নিজেদের কলাবাগানে গিয়েছিলেন শফিউল। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরিত হলে তার একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়। আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন, কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে তার মৃত্যু হয়।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তের গর্জনবুনিয়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৪১ নম্বর পিলার থেকে আনুমানিক ৪০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই ঘটনা ঘটে।
৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এস খায়রুল আলম বলেন, ‘সীমান্তে কলাবাগানে কাজ করার সময় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি।’
স্থানীয়দের দাবি, মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সীমান্তজুড়ে পুঁতে রাখা স্থলমাইনের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ল্যান্ডমাইন ও পরিত্যক্ত যুদ্ধাস্ত্র বিস্ফোরণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
গত ৯ জুন এখানে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক, ২ জুন পরিত্যক্ত মর্টার শেল বিস্ফোরণে এক তঞ্চঙ্গ্যা কিশোর এবং ২৪ মে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন তঞ্চঙ্গ্যা নাগরিক নিহত হন।


