শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ও গভর্নিং কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের না রাখার প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেছেন, ‘অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি এসব কমিটিতে থাকেন। তারা রাজনীতিতেও থাকেন। সেখানে এরকম সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র হতে পারে না। তবে গভর্নিং বডিতে সংসদ সদস্য থাকবেন না। কমিটিগুলো স্থানীয়ভাবে করা হবে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

আলোচনায় শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা তুলে দেওয়ার প্রস্তাবনা দেন। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে বিষয়টির নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোতে প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা নেই এটা সত্য। কিন্তু আমাদের সেই পর্যায়ে যেতে অনেক সময় লাগবে। বরং ক্লাসরুমে শিক্ষার পরিবেশে উন্নত করার দিকেই এখন মূল ফোকাস দিচ্ছে সরকার।’

মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে সরকার এখন গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে বেসরকারি স্কুল এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর সঙ্গে সরকার বৈঠকে বসতে শুরু করেছে বলেও জানান ববি হাজ্জাজ। এমনকি দেশের এবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকেও প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়নের জন্য একটি শিক্ষা কমিশন গঠনের দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘শিক্ষা কমিশন হলে ভালো, না হলেও আপনারা নিয়মিত আমাদের জবাবদিহির মধ্যে রাখবেন। আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করেই শিক্ষার বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আলোচনা থেকে আরও জানা গেছে, সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো পুনঃনির্মাণের ক্ষেত্রে ‘লার্নিং আউটকাম’ এর বিষয়টি যাতে গুরুত্ব পায় সেজন্য ‘আর্কিটেক্ট এবং ‘আর্লি লার্নিং এক্সপার্ট’দের সঙ্গে সরকার আলোচনা করছে। এ ছাড়াও দেশের প্রতিটি উপজেলায় তিনজন করে ‘স্পোর্টস ইন্সট্রাকটর কোঅর্ডিনেটর’ নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয়ের অন্তত একজন শিক্ষকের বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করবে সরকার।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র‌্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মিঞা মো. নূরুল হক, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, মাহমুদা মিতু, মারজিয়া মমতাজসহ আরও অনেকে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad