রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। ডলার নামের এক ব্যক্তি রামিসাকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
এ মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মধ্যদিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।একইসঙ্গে ২ জুন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত।
সোমবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে আদালতে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের উদ্দেশ করেও সোহেল বলতে থাকেন ‘ডলার’ শিশু রামিসাকে হত্যা করেছে। এসময় ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিরপুর ১১ নম্বর বাড়ির অনেক টাকাওয়ালা।’
এদিন সকাল ১১ টার কয়েক মিনিট আগে সোহেল রানা ও এর কয়েক মিনিট পরে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে হাজত খানা থেকে বের করে এজলাসে নেওয়া হয়। তাদের উপস্থিতিতে শুরু হয় অভিযোগ গঠনের শুনানি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শুনানিতে আদালতকে বলেন, “আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী নৃশংসভাবে শিশু রামিসাকে হত্যা করেছে সোহেল রানা। প্রথমে তাকে ধর্ষণ এবং পরে সেই আলামত ধ্বংস করতে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা ও দেহকে কয়েক খণ্ড করা হয়। রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যায় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না সহযোগিতা করেছেন।
পরে বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিটে উল্লেখ করা বিষয় সম্পর্কে সোহেল রানার বক্তব্য জানতে চান। এসময় সোহেল রানা আদালতকে বলেন, “আমি মারিনি। আমি ধর্ষণও করিনি। আমার স্ত্রীও নির্দোষ।” আদালতকে তিনি আরও বলেন, “ধর্ষণ করেছে ডলার, মারছেও ডলার। আমি নির্দোষ। আমার ডিএনএ নেওয়া হয়নি।”
তবে সোহেল রানা আদালতের কাছে ডলারের পরিচয় প্রকাশ করেননি।
সরকার নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহ জানান, তিনি আসামিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তখন আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও ডলার সম্পর্কে কিছুই বলেনি।
শুনানি শেষে রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নেন বিচারক মাসরুর সালেকীন। একই সঙ্গে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামিরা অভিযোগ অস্বীকার করায় মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এস আই অহিদুজ্জামান আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অঅভিযোগপত্রে বলা হয়, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যায় সহায়তা করার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।


