চিকিৎসকের অবহেলায় গর্ভের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে মামলা

চিকিৎসকের অবহেলায় গর্ভের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে মামলা
Advertisement
Advertisement

রাঙ্গামাটিতে চিকিৎসকের অবহেলা ও অশোভন আচরণের কারণে গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার অভিযোগে মামলা করেছেন এক রোগীর স্বজন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙ্গামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের স্ত্রী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ মো: মাসুদুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন জুয়েল রানা নামে এক ব্যক্তি।

মামলার নথিতে বলা হয়, বাদী জুয়েল রানার স্ত্রী রীনা আক্তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক তাহমিনা দেওয়ানের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ৮ জুলাই রাতে রীনা আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাহমিনা দেওয়ান রাঙ্গামাটিতে না থাকায় তাকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১০ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় হাসপাতালের অনুমতি নিয়ে শহরের পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হসপিটালে এক চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১১ জুলাই সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদুর রহমান তালুকদারকে প্রেসক্রিপশন ও আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট দেখালে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি রীনা আক্তারের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং রোগীর মুখ থেকে অক্সিজেন ও স্যালাইন খুলে দিয়ে তাকে হাসপাতালের বেড থেকে নামিয়ে দেন।

এ সময় রীনা আক্তার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে বিকাল ৫টার দিকে একজন সিনিয়র নার্স রোগীর স্বামী জুয়েল রানাকে জানান, আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে গর্ভের সন্তান মৃত পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জুয়েল রানা বলেন, ‘মাসুদুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে রাঙ্গামাটি আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আশা রাখি সুষ্ঠু বিচার পাব।’

আরও পড়ুন

তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসক তাকে স্ত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাফি হাসপাতালের পাশের এবিসি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করাতে বলেছিলেন। সেখানে না করিয়ে পপুলারে করানোয় চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হন।

জুয়েল রানা বলেন, ‘প্রেসক্রিপশন দেখার পরই তিনি স্ত্রীর মুখ থেকে অক্সিজেন ও স্যালাইন খুলে দেন। এতে আমার স্ত্রী ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালের আরএমও শওকত আকবর খানের পরামর্শে হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। বিকালে জানানো হয়, গর্ভের সন্তান মারা গেছে। আমার সন্তান সুস্থ ছিল। চিকিৎসকের অবহেলায় সন্তান হারিয়েছি।’

রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশু মনি চাকমা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে জুয়েল রানার পক্ষে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে মাসুদুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি নালিশ দায়ের করা হয়েছে।’

তিনি জানান, অভিযোগের প্রাথমিক উপস্থাপনা বিবেচনা করে আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আইন অনুযায়ী তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মাসুদুর রহমান তালুকদার বলেন, তিনি মামলার বিষয়ে জানেন না। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

তিনি বলেন, ‘বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে হাসপাতালেই আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। একটি শিশু গর্ভে ভালো থাকার জন্য ১০ পয়েন্ট পানি প্রয়োজন হয়। কিন্তু তখন পানির পরিমাণ ছিল ৫ পয়েন্ট। প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ছিল না।’

চিকিৎসক আরও বলেন, পরে শুক্রবার হাসপাতালের কাউকে না জানিয়ে রোগীর স্বজনরা রাঙ্গামাটি পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হসপিটালে এক গাইনি চিকিৎসকের মাধ্যমে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করান। ওই রিপোর্ট ভালো আসায় তাদের বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

‘কোনো ধরনের খারাপ কথা বলার প্রশ্নই আসে না। তারা যে অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং রোগীর এক স্বজন নিজেই রিপোর্ট ছিঁড়ে ফেলেছেন,’ বলেন তিনি।

অক্সিজেন ও স্যালাইন খুলে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মাসুদুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘কোনো হাসপাতালেই ডাক্তাররা অক্সিজেন বা স্যালাইন লাগান না বা খোলেন না। এসব কাজ নার্সরা করেন। তাহলে আমি কেন অক্সিজেন বা স্যালাইন খুলে দেব? তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad