বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। বর্ণিল আয়োজনের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। এবারের নববর্ষের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাস ইতোমধ্যেই রঙে-রূপে সেজে উঠেছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন এলাকায় চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন শোভাযাত্রার বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন মোটিফ।
বাঁশ, কাঠ, কাগজ ও রঙের নিপুণ ব্যবহারে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য, পশুপাখি, মুখোশ ও মাটির উপকরণসহ নানা লোকজ প্রতীক। শিক্ষার্থীদের মতে, এসব শিল্পকর্মে ঐতিহ্যের পাশাপাশি সমকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তাও প্রতিফলিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চৈত্রসংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ১৪ এপ্রিল সকালে উপাচার্যের বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে দিনের সূচনা হবে। এরপর অমর একুশে সংলগ্ন মৃৎমঞ্চে প্রদীপ প্রজ্বালন ও সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

চারুকলা বিভাগের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেবে। শোভাযাত্রাটি মৃৎমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হবে। বর্ণিল এই শোভাযাত্রায় সেরা অংশগ্রহণকারীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিকালে টিএসসি এলাকায় বসবে বৈশাখী মেলা ও লোকজ আপ্যায়নের আয়োজন। সেখানে পিঠা-পুলি ও বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমারোহ থাকবে। এ ছাড়া রাত পর্যন্ত চলবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মূল আয়োজনের পাশাপাশি বাংলা বিভাগ এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ পৃথকভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব আয়োজনের মধ্যে রয়েছে, সংগীত ও নৃত্য, পুতুলনাট্য, লোকগান এবং ঐতিহ্যবাহী লোকজ পরিবেশনা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য বাঙালির সংস্কৃতি ও শাশ্বত ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই উৎসবের সার্থকতা।


