ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হল ও ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
রোববার দাবি আদায়ে এই ঘেরাও কর্মসৃচি পালনের কথা শনিবার ডাকসুর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়েছে।
ডাকসু যেসব দাবি জানিয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওসমান হাদি হল, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে ফেলানী হল রাখা এবং জুলাই গণহত্যার সমর্থন দিয়েছেন এমন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলটির প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে হলের নামের সঙ্গে জাতির জনক শব্দ দুটি যোগ করে।
গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হলের নাম বদলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল নামকরণের দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা। এই নাম লিখে ব্যানারও টাঙিয়ে দেন তারা।
অবশ্য সবশেষ গত শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে নাম পরিবর্তনের দাবিতে হলের প্রধান ফটকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেন হল সংসদের নেতারা।
এ বিষয়ে হল সংসদের সহ সভাপতি (ভিপি) মো. মুসলিমুর রহমান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের শরিফ ওসমান হাদি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরোদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। যেসব কালচারাল ফ্যাসিস্টদের হাতে হাদি ভাই শাহাদাত বরণ করেছেন, তারা বর্তমানে দিল্লিতে পালিয়ে রয়েছেন।’
‘এই কালচারাল ফ্যাসিস্টদের জনক শেখ মুজিবুর রহমান। সে কারণেই আমরা তাদের নাম বাদ দিয়ে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নামে হলের নামকরণ করতে চাই।’
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আল সাবাহ বলেন, আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হবে।
তিনি জানান, এর আগেও দুই দফা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত ফেসবুকে তার মতামত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘হলের নাম পরিবর্তন নিয়ে আমরা একমত ছিলাম এবং সেইটি নিয়ে আমাদের হলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে আমরা মেয়েদের মতামতও সংগ্রহ করছিলাম। তবে ডাকসুর অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে এই পোস্ট দেওয়ার আগে আমাদের হল সংসদের কারও সাথে যোগাযোগ করা হয়নি।’
কেন হলের আবাসিক ছাত্রীদের মতামত না নিয়ে ডাকসু নাম পরিবর্তনের এই দাবি তুলেছে, সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি।
মিফতাহুল বলেন, ‘আমার হলের বিশাল সংখ্যক মেয়েদের নাম সম্পর্কে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া অপশনটি ছিল ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম যিনি একজন বীরপ্রতীক। তারা চেয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখা, বাংলার নারীদের লড়াইয়ের প্রতীক হওয়া নারীদের নামে হোক তাদের হলের নাম।’
‘উল্লেখ্য, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া অপশনটি ছিল ফেলানী হল। এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে আমরা এই দুইটি নাম নিয়েই কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। তবে এই ধরনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের উপর নিন্দা জানাই।’


