দিনাজপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ইকবালুর রহিম ও তার স্ত্রী নাদিয়া সুলতানা মুক্তির জমি, ফ্ল্যাট এবং আয়কর নথি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক চারটি আবেদনের ভিত্তিতে এ রায় দেওয়া হয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, ইকবালুর রহিমের নামে দিনাজপুরে ৫ দশমিক শূন্য ৫৮ একর জমি, ভাটারা থানায় একটি প্লট, উত্তরা এলাকায় পাঁচ কাঠা জমি এবং ধানমন্ডিতে ২ দশমিক ৩৭ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া আটটি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রি করতে পারে। এ ছাড়া তাদের আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত সম্পদ রাখার অভিযোগে মামলা তদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগে, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি বৈধ উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্ত্রীসহ ইকবালুর রহিমের নামে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ইকবালুর রহিম ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতপূর্বক বৈধ উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১২ কোটি ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৬২০ টাকার সম্পদ অসাধু উপায়ে অর্জন করে তা ভোগ-দখলে রেখেছেন।
এ ছাড়া, তিনি তার নিজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৪টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে দুদক আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
এতে আরও বলা হয়, ইকবালুর রহিম অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের একটি অংশ বৈধ করার জন্য তার স্ত্রী নাদিরা সুলতানার মালিকানায় দেখিয়ে পরস্পর যোগসাজসে অবৈধভাবে ৭৪ লাখ ৮২ হাজার ৫৪২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন দেখান।
তারা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ নিজেদের ভোগ-দখলে রেখে দুদক আইন মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এই অপরাধে নাদিরা সুলতানার বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়।


