জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার দাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। একই সঙ্গে তারা জাতীয় পার্টিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতাদের অভিযোগ, জাতীয় পার্টি বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আসন্ন গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান, স্বৈরাচারবিরোধী শক্তিকে দৃঢ় করা এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধের পথ সুগম করা।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাদমান আবদুল্লাহ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বিগত ১৭ বছরে ভোট ডাকাতি, দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া মানে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন করা। এখনো সময় আছে, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া।’
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের প্রকাশ্যে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা আওয়ামী লীগের শাসনব্যবস্থার পক্ষেই অবস্থান নেওয়ার শামিল।
এ সময় তিনি শরিফ উসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সমালোচনা করেন।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ হক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে অপরাধ করেছে, একই অপরাধের দায়ে জাতীয় পার্টিও অপরাধী।’
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে সরকার নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়েছে। দলটি ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠকের কথা স্বীকার করলেও সেই বৈঠকের বিষয়বস্তু জনগণের সামনে প্রকাশ করেনি।
এ সময় তিনি জাতীয় পার্টিকে জাতীয় নির্বাচন থেকে বাতিল করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি নেওয়াজ খান বাপ্পী বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ সীমিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাদমান আবদুল্লাহ সারা দেশের ৩০০ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী তোহা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, সংবাদ সম্মেলনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য দেশের আটটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।


