তেত্রিশ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এতে প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলের ২২৪টি বুথে ভোটগ্রহণ।
দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। মোট ১১ হাজার ৭৪৭ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন।
ভোটের দিন সকাল থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিটি হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা ও সহকারী পোলিং কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ১ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন মোট ১৭৮ জন প্রার্থী। সহসভাপতি (ভিপি) পদে নয়জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নয়জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ছয়জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১০ জন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সাংগঠনিক ও স্বতন্ত্র প্যানেল তাদের প্রার্থী দিয়েছে।
২১ হলে কাস্ট হলো যত ভোট
আল বেরুনী হলে ২১১ ভোটারের মধ্যে কাস্ট হয়েছে ১২৫টি ভোট, কামাল উদ্দিন হলে ৩৪১ ভোটারের মধ্যে ২১৬ জন ভোট দিয়েছেন, শহীদ সালাম-বরকত হলে ৩০৩ জনের মধ্যে ভোট পড়েছে ২২৪টি। ছাত্রী হলগুলোতেও শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। রোকেয়া হলে ৯৫৭ ভোটারের মধ্যে ৬৮০ জন ভোট দিয়েছেন, ফজিলাতুন্নেছা হলে ৮০৯ ভোটারের মধ্যে কাস্ট হয়েছে ৪৮৯ ভোট। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলে, ৯১৪ ভোটারের মধ্যে ৭৫২ জন ভোট দিয়েছেন। এভাবে ২১টি হলে গড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন।
তবে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ছাত্রদল সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এর পরপরই ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’-এর ভিপি প্রার্থী আরিফ উল্লাহ আদিব দাবি করেন, ‘পরাজয় নিশ্চিত জেনেই ছাত্রদল ভোট বর্জন করেছে।’ শুধু ছাত্রদল নয়, আরও কয়েকটি প্যানেল–‘সম্প্রীতির ঐক্য’, ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট–অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায়। কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ও নির্বাচনের প্রতি অনাস্থা জানায়।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক রশিদুল আলম সাংবাদিকদের জানান, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা চলায় ফলাফল ঘোষণা করতে শুক্রবার সকাল বা দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ফলাফলের জন্য।


