১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে চূড়ান্ত হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার পরিকল্পনা। বাঙালির স্বাধীনতার নেপথ্য কারিগর সিরাজুল আলম খানের নির্দেশে এবং অনুমোদনে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেন একঝাঁক তরুণ ছাত্রনেতা।
স্বাধীনতার পর সেই হলটির নাম হয়েছে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল।
জাতীয় পতাকা তৈরির সঙ্গে জড়িত হলটির সেই ১১৬ নম্বর কক্ষকে জাদুঘরে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন বর্তমান আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে হল প্রভোস্ট বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা।
সোমবার দুপুর ২টায় হলটির প্রথম বর্ষের একদল শিক্ষার্থী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ফারুক শাহের হাতে এ স্মারকলিপি তুলে দেন।
এ সময় তারা ১১৬ নাম্বার কক্ষকে ‘পতাকা জাদুঘর’ বা অনুরূপ ঐতিহাসিক জাদুঘরে রূপান্তরের পাশাপাশি হল প্রাঙ্গণে নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সময় সিয়াম তার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘জহুরুল হক হল দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মার্চে রুম ১১৬ তেই বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত প্রথম জাতীয় পতাকা তৈরি হয় এবং সেখান থেকেই স্বাধীনতার ইশতেহার প্রস্তুত করা হয়।’
‘এমন একটি ঐতিহাসিক কক্ষ আজও সাধারণ আবাসিক কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া দুঃখজনক। ইতিহাসের যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে তা পৌঁছে দিতে রুমটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করা সময়ের দাবি।’
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা ১১৬ নাম্বার কক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক কক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা, কক্ষটি সংস্কার করে ‘পতাকা জাদুঘর’ বা মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনভিত্তিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন করা এবং ঐ কক্ষে প্রথম জাতীয় পতাকা তৈরির ইতিহাস, দলিল, আলোকচিত্র ও প্রামাণ্য উপকরণ সংরক্ষণ করার দাবি জানান।
হল প্রভোস্ট ফারুক শাহ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবটা আমি পজিটিভলি নিয়েছি। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরে মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।’


