জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক অর্থায়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সরকারি পর্যায়ের জলবায়ু তহবিল থেকে নারী উদ্যোক্তাসহ সকল উদ্যোক্তার জন্য বিশেষ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে যারা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
শনিবার সকালে ঢাকার লেকশোর হোটেলে ‘ভয়েসেস ফর চেঞ্জ: পুটিং ক্লাইমেট অ্যাকশন, উইমেন এন্ট্রাপ্রেনারস, অ্যান্ড এসএমই ইন বাংলাদেশের পাবলিক পলিসি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু সংখ্যা নয়, তাদের দৃশ্যমানতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানো মূল বিষয়। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক, এসএমই ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে, তারপরও দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হওয়া সত্ত্বেও সুযোগ এখনো যথেষ্ট নয়। এই অধিকারের দাবি নারীদের নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের এসএমই খাত কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় উৎস, যার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা নারীদের জন্য। এক নারী উদ্যোক্তা সাধারণত অন্য নারীসহ একাধিক কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেন।’
নারীদের ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘নারীরা ঋণ নিলে তা পরিশোধ করেন–এটা প্রমাণিত সত্য। তাই নারীদের ঋণ সহায়তা বাড়ানো উচিত।’
ফরিদা আখতার বলেন, ‘ভূমিকম্প বড় আঘাত দেয় একবার, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিদিনের সমস্যা।
কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান কম হলেও দেশটি ঝুঁকির দিক থেকে বিশ্বের প্রথম সাতটি ভুক্তভোগী দেশের মধ্যে।’
তিনি কপ-৩০ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘ব্রাজিলের বেলেমে জলবায়ু আলোচনায় নারীদের বক্তব্য যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।’
উপদেষ্টা আরও জানান, পরিবেশবান্ধব নয় এমন কৃষি ও পশুপালন পদ্ধতি দেশে কার্বন নিঃসরণ বাড়াচ্ছে। এ কারণে গবাদিপশুর খাদ্যাভ্যাস উন্নয়নের মাধ্যমে মিথেন কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে শিল্পোন্নত দেশগুলোর ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইভস্টকে কার্বন নিঃসরণ আরও বেশি।
জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৎস্য খাত। এর প্রভাবে নদী ও সাগরে ইলিশের প্রাপ্যতা কমছে, পাশাপাশি সমুদ্রের বিভিন্ন অঞ্চলে অক্সিজেন ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি।
সেমিনারে বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারী উদ্যোক্তা ও এসএমই খাতের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, টেকসই নীতি সহায়তা বাড়ানো এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের আহ্বান জানান।
উইমেন এন্ট্রাপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আউয়াল সেমিনারের সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মুশফিকুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. রফিকুল ইসলাম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলের ডেপুটি হেড বাইবা জারিনা।


