প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে গণবিরোধী, লুটের এবং দলীয় কর্মী লালনের বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, ‘৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট ঋণনির্ভর ও উচ্চ ঘাটতির বাজেট, যার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে এ বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না এবং বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বাজেটে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে যে রাজস্ব আদায়ের হিসাব ধরা হয়েছে, তা অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। যারা বাজেট তৈরি করেছেন, তারা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও কষ্ট যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেন না। এ কারণে বাজেটে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বার্থের প্রতিফলন ঘটেনি।’
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘বর্তমানে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপে রয়েছে। এর মধ্যে এই বাজেট বাস্তবায়িত হলে বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি হবে এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্নআয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষ।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি জনমুখী ও বৈষম্যহীন বাজেট উপস্থাপন করা হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘এ বাজেট গরিববান্ধব নয়। যারা বাজেট প্রণয়ন করেছেন, তারা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন। কারণ, মন্ত্রীরা গর্ব করে সংসদে বলেন, তারা গরীব নন, তাদের চারটি গাড়ির চারজন ড্রাইভার আছেন। ফলে নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ ও চাহিদার প্রতিফলন বাজেটে নেই। এ বাজেট বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের চাপ আরও বাড়বে, যার সবচেয়ে বড় খেসারত দিতে হবে গরিব মানুষকে।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ শেষে প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।


