হাতের স্পর্শ ছাড়াই চোখের ইশারায় চলছে কম্পিউটার। পাইথন কোড ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে মোহাম্মদপুর প্রপারেটরি স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার দুপুরে মোহাম্মদপুরের বেগম নূরজাহান মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলে ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে’ এই অসাধারণ প্রজেক্ট প্রদর্শিত হয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে মাউশির এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় থানা পর্যায়ের এই আয়োজন করে। মোহাম্মদপুর থানার ২৮টি স্কুল-কলেজের ৬৬টি দল এতে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি শিক্ষার্থীদের তৈরি বিজ্ঞান প্রকল্প, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও স্টার্ট-আপ ধারণা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
দেশব্যাপী এই কর্মসূচি ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় এই তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে শুক্রবার সারাদেশের ৫২০টি উপজেলা ও মহানগর শিক্ষা থানায় একযোগে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের প্রোগ্রাম অফিসার তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘কর্মসূচির উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে এনে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য বিকাশে উৎসাহিত করা। বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা, উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ও উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তোলাও এই উদ্যোগের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
উপজেলা ও থানা পর্যায়ে নির্বাচিত দলগুলো ১৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১০০টি দলকে নিয়ে ২৮ জুন রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত আয়োজন হবে। সেখানে সেরা ১০টি দল নির্বাচন করা হবে। বিজয়ী শিক্ষার্থীরা ২০ হাজার টাকা ও শিক্ষকেরা ৩০ হাজার টাকা করে পুরস্কার ও সনদপত্র পাবেন।


