ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তথ্য ডিজিটালাইজেশন কেন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
রোববার একটি রিটের শুনানি করে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফাহমিদা আখতার।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু আমাদের দেশে অপরাধের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে, সেক্ষেত্রে একটি অনলাইন ডাটাবেজ যদি তৈরি করা যায়, যাতে দণ্ডিত আসামিদের রেকর্ডগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যার কারণে সামাজিক তিরস্কারের ভয়ে, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয়ে অপরাধীরা বারবার চিন্তা করবে। এতে অপরাধের সংখ্যাও কমবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অপরাধ সংঘটনের পর শাস্তির বিধানসংবলিত অনেক আইন রয়েছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে কোন আইনে মামলা করতে হবে, কী ধরনের শাস্তি হবে—এসব বিষয়ে আইনি কাঠামোও রয়েছে। কিন্তু অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও এখনো গড়ে ওঠেনি।’
‘আমরা যদি কাউকে চাকরিতে নিয়োগ দিতে চাই কিংবা কাউকে বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে রাখতে চাই, তাহলে তার পরিচয় ও অতীত সম্পর্কে জানার জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা নেই। অথচ একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার আগে তার পরিচয়, পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড ও পটভূমি সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের তথ্য যাচাইয়ের জন্য যদি একটি অনলাইন তথ্যভান্ডার তৈরি করা যায়, তাহলে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারও সুরক্ষিত হবে এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছি। শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেছে।’


