স্বামীর ভিটে আঁকড়ে বাঁচার আকুতি, নির্যাতনে হাসপাতালে বিধবা

স্বামীর ভিটে আঁকড়ে বাঁচার আকুতি, নির্যাতনে হাসপাতালে বিধবা
নির্যাতন, ভাঙচুর ও মারধরের শিকার হয়ে রোকসানা বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য ভিটেমাটি ছিল দুই সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। সেই স্মৃতি বিজড়িত মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু ছেড়ে যেতে নারাজ তিনি। তবে বিধবার এই আকুতি যেন কাল হলো। ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে স্বজনদের অব্যাহত নির্যাতন, ভাঙচুর ও মারধরের শিকার হয়ে এখন তিনি হাসপাতালে।

ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার কামারকুড়ি গ্রামে। স্বামীর পৈতৃক ভিটেয় থাকা দুই সন্তানের জননী রোকসানা বেগমকে (৪০) মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন তারই ভাসুরপুত্র সবুজ হোসেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, স্বামী মোতাহার হোসেনের মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে পৈতৃক ভিটেতে দিন কাটাচ্ছিলেন রোকসানা। কিন্তু দেবর ও ভাসুর ছেলেরা পুরো সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন। ইতোমধ্যে বসতভিটার একাংশ দখলও করে নেওয়া হয়েছে।

রোকসানার অভিযোগ, এই ভিটে থেকে তাকে তাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। স্থানীয় মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মেলেনি কোনো সুরাহা; উল্টো মিলেছে প্রাণনাশের হুমকি।

আরও পড়ুন

রোববার দুপুরেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ভাতিজা সবুজ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে রোকসানাকে বেধড়ক মারধর করেন এবং তার রোপণ করা কলাগাছ কেটে সাবাড় করে দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় থাকা রোকসানা বেগম হাসপাতালে শুয়ে জানান, স্বামীর স্মৃতি জড়িয়ে থাকা এই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতেই পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই অত্যাচার চালানো হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সবুজ হোসেন কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

তবে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, ‘৯৯৯’-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad