বাংলাদেশ ও চীনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং চীনের তিনটি শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক চেম্বারের মধ্যে শনিবার চীনের গুয়াংডং-তে পৃথক তিনটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী চীনের সংগঠনগুলো হলো গুয়াংডং চেম্বার অব কমার্স অফ ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স (জিডিসিসিআইই), চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অফ মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স প্রোডাক্টস (সিসিসিএমই) এবং গুয়াংজু চেম্বার অব কমার্স ফর আউটবাউন্ড বিজনেস।
ডিসিসিআই-এর ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং চীনা সংগঠনগুলোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
বর্তমানে চীন সফররত ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধিদলটি চায়না ফরেন ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত ১৩৯তম ক্যান্টন ফেয়ারের ‘ট্রেড ব্রিজ-বাংলাদেশ ম্যাচমেকিং ইভেন্টে’ অংশ নেন। সেখানে প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ প্রায় ২৭০টি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিটুবি (বিজনেস-টু-বিজনেস) সেশনে অংশগ্রহণ করে বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদান করেন।
বাণিজ্য আলোচনা সেশনে ডিসিসিআই-এর ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, চীন বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বাংলাদেশের আমদানির বৃহত্তম উৎস। গত অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে চীন পঞ্চম বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তিনি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, সেমিকন্ডাক্টর এবং উচ্চ প্রযুক্তির শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে স্টার্টআপ, ফিনটেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বায়োটেকনোলজির মতো উদ্ভাবনী খাতে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উভয় দেশের উদ্যোক্তারা লাভবান হতে পারেন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সিসিপিআইটি-এর পরিচালক কিউ জানান, ভৌগোলিকভাবে কৌশলগত অবস্থানে থাকা চীনের নানশা প্রদেশের আঞ্চলিক জিডিপি ২০২৫ সালে ২৪০ বিলিয়ন ইউয়ান অতিক্রম করেছে। তিনি অটোমোবাইল ও বায়োমেডিসিন শিল্পে যৌথ সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, গুয়াংডং চেম্বারের সভাপতি উ শাওওয়েই বলেন, গুয়াংডং-এর পণ্য দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করতে পারে।
চায়না চেম্বার ফর মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স প্রোডাক্টস-এর সহসভাপতি শি ইয়ংহং ১৩৯তম ক্যান্টন ফেয়ারকে বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের মিলনস্থল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা চীনের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক ব্যবধান কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে।


